Header Ads

Header ADS

Daily Life part 4



দিনলিপি-১৭২৮
(২৫-০৭-১৯)
বাবার শিক্ষা!

১: সন্তানের প্রথম শিক্ষক হলেন বাবা আর মা। বাবা সৎ হলে, সন্তান সাধারণত সৎ হয়ে থাকে। বাবার সততার প্রভাব সন্তানের উপর বেশি পড়ে আদর্শিক ক্ষেত্রে। মায়ের প্রভাব বেশি পড়ে আখলাকের ক্ষেত্রে।
২: আদর্শ আর আখলাকের মধ্যে পার্থক্য কী? আদর্শ চিন্তাগত দিক। আখলাক হল আচরণগত দিক। এ হল মোটাদাগের কথা। নইলে সন্তান বাবা-মা উভয়ের কাছ থেকেই আদর্শ-আখলাক শেখে। কুরআন আদর্শ ও আখলাক উভয় ক্ষেত্রেই বাবাকে সামনে এনেছে। বাবার ভূমিকাকে প্রধান করে দেখিয়েছে,
وَكَانَ أَبُوهُمَا صَـٰلِحا
আর তাদের দু’জনের পিতা ছিল সালিহ (পূণ্যবান)। কাহফ ৮২।
৩: এক পিতা সম্পর্কে সন্তানের শ্রদ্ধামুগ্ধ স্মৃতিচারণ,
-আমার আব্বুর কাছ থেকে জীবনের অনেক পাঠ পেয়েছি। আব্বু চেতনে-অবচেতনে আজীবন আমাদের শিখিয়ে গেছেন। আব্বুর কাছ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে শিক্ষাটা পেয়েছি, তা হল, আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ তাওয়াক্কুল। তিনি শুধু মুখেই বলতেন, নিজের জীবনেরও এর বাস্তবায়ন ঘটাতেন। তিনি বলতেন,
‘‘ তুমি যখন বিপদে বা সংকটে পড়বে আর তা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে শুরু করবে, প্রথমেই তোমাকে একটা কাজ করতে হবে। তোমার মন-মগজ থেকে ‘গাইরুল্লাহকে’ বের করে দিতে হবে। গাইরুল্লাহ মানে হল, আল্লাহ ছাড়া যা কিছু আছে, সব। মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাইকে বের করে দেবে। কারও প্রতি বিন্দুমাত্র আশা রাখবে না। কেউ তোমাকে এই বিপদে সাহায্য করতে পারবে না। একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই পারেন তোমাকে এই সংকট থেকে উদ্ধার করতে। এই শুদ্ধতম তাওয়াক্কুল ও বিশ্বাস নিয়ে রাব্বে কারীমের দরবারে নতজানু হবে। ইন শা আল্লাহ অবশ্যই সংকট কেটে যাবেই।
যখন দেখবে তুমি কায়মনোবাক্যে দু‘আ করার পরও সংকট কাটছে না, তাহলে বুঝে নিবে, তোমার ভেতরের কোথাও ‘গাইরুল্লাহ’ ঘাপটি মেরে আছে। আবার নবচিন্তায় ভেতরটাকে সাফ-সুতরো করে নেবে। তারপর দু‘আয় বসবে। ইন শা আল্লাহ বিপদ কেটে যাবে।
৪: ওই ভাই বলেছেন, আমি জীবনে বহুবার এটা পরখ করে দেখেছি। ফল পেয়েছি হাতেনাতে। অবিশ্বাস্যভাবে বিপদ কেটে গেছে। পেয়ারা নবীজি সা. অত্যন্ত সত্য বলেছেন,
ومن تعلَّق بشيءٍ وُكِل إليه
যে যার সাথে সম্পর্ক জুড়ে, তাকে তার সোপর্দ করা হয় (নাসাঈ ৪০৭৯)।
৫: উপরের হাদীসকে কেউ কেউ যঈফ বলেছেন কেউ হাসানও বলেছেন। কিন্তু রাব্বে কারীম তো অবশ্যই অবশ্যই সত্য বলেছেন,
وَمَن یَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱللَّهِ فَهُوَ حَسۡبُهُۥۤۚ
আর যে কেউ আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করবে, তিনি তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন (তালাক ৩)।
৬: ওই ভাই তার বাবার যবানীতে আরেকটা কথা যোগ করেছিলেন। তার বাবা এও বলেছিলেন,
‘‘ বাছা, তোমাকে আরেকটা বিষয়ে পরিষ্কার ধারনা রাখতে হবে। আমি সংকট বলে কোন ধরনের সংকট বুঝিয়েছি, সেটার স্বরূপ না জানলে, পরে আবার ঈমানে দুর্বলতা দেখা দেবে। আমি সংকট বলে বুঝিয়েছি ধর হঠাৎ অসুখে পড়লে বা হঠাৎ আর্থিক সংকটে পড়ে গেলে বা হঠাৎ নির্জন পথে তোমার গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে বা তোমার মেয়ের বিয়ে হচ্ছে না বা তোমার ব্যবসা মার খাচ্ছে ইত্যাদি।
৭: ‘‘কিন্তু কিছু বিপদ আছে ‘তাকবীনি’। মানে জগতপরিচালনা সম্পর্কিত। যেমন ধরো আমাদের ফিলিস্তীনের উপর চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। আমাদের শামের ভাইরা ভয়াবহ গণহত্যার শিকার হচ্ছে। আমাদের উইঘুর মুসলিম ভাইয়েরা জাতিগত শুদ্ধি অভিযানের মুখে পড়েছে। এ-ধরনের ব্যাপক বিপর্যয়ে, শুধু দু‘আ করলে সাধারণত তাৎক্ষণিক ফলোদয় হবে না। এ-ধরনের বিপর্যয়গুলোর সাথে অসংখ্য কারণ জড়িত থাকে। তুমি এমন বিপদে পড়লে অবশ্যই দু‘আ করবে। তখন সাথে সাথে কবুল না হলে, এই দু‘আর প্রতিদান অবশ্যই অন্যভাবে পবে। হয় দুনিয়াতে নয় আখিরাতে। ব্যক্তিগত বিপদাপদে যেভাবে শিখিয়ে দিয়েছি, সেভাবে দু‘আ করবে, অবশ্যই ফল পাবে। জাতিগত বিপদ থেকে উত্তরণ একার দু‘আয় হয় বলে মনে হয় না।

কোন মন্তব্য নেই

nicodemos থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.